news
জরুরি সেবায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন ঢাকাবাসী
জরুরি পরিস্থিতিতে সময়মতো সাহায্য পেতে নানা ভোগান্তির কথা জানাচ্ছেন শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।
শুনুন বাংলা · 4 মিনিট
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি

ঢাকার বাসিন্দারা স্থানীয় জরুরি সেবার মান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন। সাড়া দিতে দেরি হওয়া এবং সমন্বয়ের অভাব— এই দুটি সমস্যার কথাই বারবার উঠে আসছে তাদের বক্তব্যে।
স্থানীয়দের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে গাড়ি আসতে অনেকটা সময় লেগে যায়। অনেক পরিবার এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন যেখানে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগের পর বারবার এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ফোন ঘোরানো হয়েছে, আর স্বাস্থ্য সংকট বা আগুন লাগার মতো পরিস্থিতিতে সেই বাড়তি মিনিটগুলো মনে হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ভোগান্তির কথা মূলত সেই পরিবারগুলো বলছেন যারা বেসরকারি বিকল্পের পরিবর্তে সরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এতে বোঝা যাচ্ছে, আয়ের তারতম্য অনুযায়ী সেবার সুযোগেও বৈষম্য রয়েছে।
বাজারের দোকানদার থেকে শুরু করে আবাসিক ভবনের বাসিন্দা— সবাই জানাচ্ছেন, পুরোনো এলাকার সরু গলিতে গাড়ি ঢোকানো কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের শেষ পথটুকু হেঁটেই আসতে হয়। স্থানীয় বিভিন্ন সভায় এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং বড় ধরনের অবকাঠামো পরিবর্তন ছাড়াই এই রুটগুলোর উন্নত মানচিত্র তৈরি করে সময় বাঁচানো যায় কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে।
নগর ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ
জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং চলমান নির্মাণকাজ ডিসপ্যাচ কেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ ফেলছে, কারণ এসব কেন্দ্রকে একসঙ্গে একাধিক ঘটনা সামলাতে হচ্ছে। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় একই সময়ে ঘটনা ঘটলে উপলব্ধ গাড়িগুলো বিভিন্ন দিকে চলে যায়, ফলে কেউ কেউ আগের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। পাড়ার সভাগুলো থেকে পাওয়া মতামত বলছে, গড় সাড়া দেওয়ার অঞ্চল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে পরিবারগুলো আগে থেকেই ভালো প্রস্তুতি নিতে পারত।
স্থানীয় বিভিন্ন দল সরকারি হটলাইনের পাশাপাশি ব্যস্ত সময়ে কাছের ফায়ার স্টেশন ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার যোগাযোগ নম্বর অনানুষ্ঠানিকভাবে তালিকা করে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। এই উদ্যোগ এখনো ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ, তবে এটি স্পষ্ট করে যে সরকারি সেবা যখন অপ্রতুল মনে হয়, তখন মানুষ নিজেরাই সংগঠিত হওয়ার পথ খোঁজেন।
সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিয়মিত সেবার লগ পর্যালোচনা করে, তবে বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা সাম্প্রতিক কোনো সরকারি বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সঠিক জরুরি নম্বরের একটি হালনাগাদ তালিকা হাতের কাছে রাখুন এবং ফোন করার সময় ডিসপ্যাচারকে সাহায্য করতে নির্দিষ্ট অবস্থানের কথা জানান।