নীতি
ঢাকার হালনাগাদ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা ও জাতীয় নগর নীতি ২০২৫: গতিশীলতা ও আবাসন সুবিধার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ
সম্প্রতি অনুমোদিত পরিবহন ও নগর পরিকল্পনার আওতায় ঢাকায় সাইকেল ও রিকশার জন্য আলাদা লেন এবং ভবন নির্মাণে তলা-অনুপাতের নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি

সরকার ২০২৫ সালের মার্চ মাসে হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যেখানে সাইকেল ও রিকশার জন্য আলাদা ধীরগতির লেন রেখে হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাঠামো নির্ধারণে জাতীয় নগর নীতি ২০২৫ও অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে অনেক ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও দ্বিগুণ হবে এবং শহরকে ৬৫টি জনসংখ্যা-ঘনত্বের ব্লকে ভাগ করা হবে।
পরিবহন ও জেলা সমন্বয় পদক্ষেপ
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬ সালের শুরুতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনাটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং এটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩৮ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা এমআরটি লাইন ১ ও ৫-এর চলমান নির্মাণকাজ এবং বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনবিষয়ক নীতি প্রণয়নের কাজকে সহায়তা করবে।
এই পদক্ষেপগুলো পরিবহন অবকাঠামোকে ভূমি ব্যবহারের নিয়মের সঙ্গে সংযুক্ত করছে, যা রাজধানীতে প্রতিদিনের যাতায়াত ও আবাসন সরবরাহকে প্রভাবিত করবে। সাইকেল, রিকশা বা গণপরিবহনে নির্ভরশীল নগরবাসী বাস্তবায়নের পথে লেন বরাদ্দ ও যানবাহন বিধিমালায় পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন।
স্থানীয় সেবা ও অবকাঠামোয় প্রভাব
বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার পরিবর্তনগুলো নির্ধারিত ঘনত্বের ব্লকের মধ্যে বেশি ফ্লোর এরিয়া রেশিও অনুমোদনের মাধ্যমে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং আবাসন চাহিদা পূরণ করতে চায়। এই পরিবর্তন ঢাকার অনেক ভবনে প্রযোজ্য হবে এবং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য জাতীয় নগর নীতি ২০২৫-এর কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর পরিকল্পনায় মূল শহরের বাইরে সমন্বিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত। এমআরটি লাইন ১ ও ৫-এর নির্মাণকাজ বর্তমান বাজেট বরাদ্দের আওতায় চলমান রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের নিরাপত্তা এবং অ-যান্ত্রিক পরিবহন বিকল্পগুলোকে উৎসাহিত করবে।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রক্রিয়া এবং ভবন প্রস্তাবের ওপর সিটি করপোরেশনের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে নীতিগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।