নীতি
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতির নতুন দিকনির্দেশনা: জেলা ও উপজেলা সেবায় জোর
সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সম্পদ বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে ঢাকাবাসীর অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি
বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের অঙ্গীকার করেছে। এর আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে, যাতে বর্তমানে ঢাকাকেন্দ্রিক যে বৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনা যায়। নতুন স্বাস্থ্যনীতির অংশ হিসেবে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী। পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যখাতের ১০টি কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন এবং নীতিনির্ধারণে অচলাবস্থা। তাৎক্ষণিক সংস্কার হিসেবে মন্ত্রণালয় মেডিকেল ভর্তিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছে। স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং সর্বজনীন সুযোগ নিশ্চিত করতে তা বিনামূল্যে প্রদানের কথা বলা হয়েছে।
ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন সেবাপ্রাপ্তিতে প্রভাব
নতুন নীতির আওতায় ঢাকার বাসিন্দারা সুবিধা পাবেন এভাবে যে, আগে যেসব বিশেষজ্ঞ সেবা কেবল রাজধানীতে পাওয়া যেত, সেগুলো এখন আশেপাশের জেলাগুলোতেও মিলবে। ই-হেলথ কার্ড চালু হলে ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে তাদের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করতে পারবেন। চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিক দুর্ভোগ রোধে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, এবং সরকার পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই পদক্ষেপগুলো ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সম্পদের কেন্দ্রীভবন সমস্যা মোকাবেলায় সহায়ক হবে। নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা পর্যায়ে আরও বেশি সেবার সুযোগ পাবেন এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের বিকল্প বাড়বে। স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ শহর ও জেলা উভয় পর্যায়েই স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংস্কার কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশের মূল বিষয় হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা। বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের চ্যানেলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ই-হেলথ কার্ড চালু ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগ হবে এর প্রাথমিক উপাদান। সরকার জানিয়েছে, জেলা পর্যায়ের সেবা শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমবে।
বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার মধ্যে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা বর্তমান সেবাগুলো ব্যবহার অব্যাহত রাখবেন। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় উল্লেখিত ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির কোটা বাতিল ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।