নীতি
ঢাকা বিস্তারিত এলাকা পরিকল্পনা ২০২৫: নির্মাণ অনুমোদনে জোনিং নিয়ম নির্ধারণ
এই পরিকল্পনা বাণিজ্যিক, শিল্প ও আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদনযোগ্য অবস্থান নির্ধারণ করে এবং মহানগর অঞ্চলজুড়ে বাসিন্দারা কর্মসংস্থান, সেবা ও অবকাঠামো কতটা সহজে পাবেন তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি
রাজউক প্রণীত ও কার্যকর করা ঢাকা বিস্তারিত এলাকা পরিকল্পনা ২০২৫ (ড্যাপ) প্রায় ১,৫২৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সমগ্র ঢাকা মহানগর অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার, জোনিং, ভবনের উচ্চতা ও ঘনত্ব ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করবে। যেকোনো নির্মাণকাজের জন্য রাজউকের অনুমোদন নিতে হবে এবং সড়কের প্রস্থ ও জোনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সর্বোচ্চ তলার সংখ্যা এবং গ্রাউন্ড কভারেজের বিধিমালা মানতে হবে। এই নিয়মগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলবে নতুন বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনার অবস্থানে, যা বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগকে প্রভাবিত করবে।
পরিকল্পনার আওতায় জোনিং বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প (লঘু ও ভারী), মিশ্র-ব্যবহার, কৃষি, বন, বন্যাপ্রবাহ এবং জলাশয়। গণপরিবহন করিডোর ও প্রশস্ত সড়কের পাশে বেশি ঘনত্বের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন রেগুলেশনস ২০২৫ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী যেকোনো অনুমোদিত প্রকল্পে কাঠামোগত দৃঢ়তা, নির্মাণসামগ্রী ও নিরাপত্তার বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
কর্মসংস্থান, সেবা ও অবকাঠামো প্রাপ্তিতে প্রভাব
বাণিজ্যিক ও শিল্প জোনগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কারখানার স্থান নির্ধারণ করে। মিশ্র-ব্যবহার জোনে একসাথে আবাসিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকায় বাসস্থানের কাছাকাছি সেবা পাওয়া সম্ভব হয়। কৃষি, বন, বন্যাপ্রবাহ ও জলাশয় এলাকায় উন্নয়ন নিষিদ্ধ রাখায় নির্দিষ্ট করিডোরগুলোতে পরিকল্পিতভাবে প্রবৃদ্ধি পরিচালিত হবে, যেখানে সড়ক ও গণপরিবহনের মতো অবকাঠামো বর্ধিত কার্যক্রম সামলাতে পারবে। ফলে বাসিন্দারা তাদের এলাকার জোন সীমানার ওপর নির্ভর করে কর্মক্ষেত্র বা বাজারে যেতে ভিন্ন দূরত্ব অতিক্রম করতে বাধ্য হবেন।
সম্মতির তথ্য অনুযায়ী, ৮৯ শতাংশ আবাসিক ভবন ড্যাপের জোনিং বিধিমালা পূরণ করছে। তবে বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ এবং শিল্প ভবনের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ, যা কর্মসংস্থান ও সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বিধিমালা মেনে চলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের তারতম্য প্রকাশ করে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ডেভেলপারদের এখনো রাজউকের অনুমোদন নিতে হবে এবং জোনিং, এফএআর ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে।
প্রকল্প অনুমোদনে পরবর্তী পদক্ষেপ
ভবিষ্যতে নির্মাণের আবেদনগুলো ড্যাপ ২০২৫-এর জোনিং মানচিত্র ও সংশ্লিষ্ট বিল্ডিং রেগুলেশনের আলোকে মূল্যায়ন করা হবে। সরকার জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন সিদ্ধান্ত পরিচালনা করবে এবং রাজউক প্রতিটি প্রস্তাবিত স্থানের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিধিমালা প্রয়োগ করবে।