property
প্রথমবার ক্রেতাদের নজরে মিরপুর ও গুলশান: ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে এলাকাভিত্তিক যা জানা জরুরি
মিরপুর বা গুলশানে ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী ঢাকার ক্রেতাদের প্রথম বাড়ি কেনার আগেই ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ, আইনি যাচাই এবং পুরো ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি

ঢাকায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে আসা ক্রেতাদের সর্বনিম্ন ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। মিরপুর বা গুলশানের মতো এলাকায় ফ্ল্যাট বুকিং দিতে গেলে সাধারণত সম্পত্তির মূল্যের ৫ থেকে ১০ শতাংশ বুকিং মানি হিসেবে আগেই পরিশোধ করতে হয়।
স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য এই তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই অঙ্কগুলোই নির্ধারণ করে দেয় যে কেউ ঢাকার বাজারে পা রাখতে পারবেন কি না। এই শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারে এলাকাভেদে ফ্ল্যাটের দামে বিস্তর ফারাক রয়েছে। মিরপুর ও গুলশান এই বাজারের দুই বিপরীত মেরুর প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সম্পত্তি খোঁজা শুরু করার আগেই আর্থিক পরিকল্পনা সেরে নেওয়া অপরিহার্য।
মিরপুর ও গুলশানে দামের তুলনামূলক চিত্র
ঢাকায় একটি মোটামুটি মানের ফ্ল্যাটের দাম শুরু হয় ৫০ লাখ টাকার উপর থেকে। মিরপুরে ১,২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মধ্যে, আর গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় দাম ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ক্রেতাদের এগিয়ে যাওয়ার আগেই নিজের ডাউন পেমেন্টের সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে কোন এলাকা তাঁর জন্য বাস্তবসম্মত।
যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে আইনি যাচাই বাধ্যতামূলক
মিরপুর ও গুলশান, উভয় এলাকাতেই আইনি যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের উচিত মূল দলিল, হালনাগাদ খতিয়ান, রাজউক বা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, কর পরিশোধের ছাড়পত্র এবং দায়মুক্তি সনদ যাচাই করা। পছন্দের জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা নিষ্কণ্টক কি না তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই একজন সম্পত্তি আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত।
ধাপে ধাপে ক্রয় প্রক্রিয়া
প্রথমে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে, এরপর বিক্রয় বা বিপ্রপার্টির মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অথবা স্থানীয় দালালের মাধ্যমে সম্পত্তি খোঁজা শুরু করতে হবে। মিরপুর বা গুলশানে দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। দরকষাকষির পর উভয় পক্ষ বায়না নামা চুক্তি সই করেন, যেখানে সম্পত্তির মূল্যের ১০ থেকে ২০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়। সবশেষে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে চূড়ান্ত দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
নিবন্ধনের পর যা যা করতে হবে
দলিল নিবন্ধন শেষ হলে ক্রেতাকে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নামজারির (মিউটেশন) জন্য আবেদন করতে হবে। এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরেই কেবল গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করা উচিত, বাড়ি বুঝে নেওয়ার আগেই এসব কাজ সেরে রাখতে হবে। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে সম্পত্তির মালিকানা সম্পূর্ণরূপে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যেকোনো এলাকায় বসবাসের জন্য প্রস্তুত।