wellness
ঢাকায় ঘুমের সমস্যা মোকাবেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা
শহরের শব্দদূষণ, গরম ও মানসিক চাপের কারণে ঘুমের সমস্যায় ভোগা ঢাকাবাসী কীভাবে ব্যবহারিক অভ্যাস গড়ে তুলছেন।
আমরা এটি কীভাবে রিপোর্ট করেছি

বাংলাদেশের প্রায় ২৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, আর মহামারির মতো উচ্চ মানসিক চাপের সময়ে এই হার বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছায়। নগরজীবনের চাপ ও পরিবেশগত কারণ এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও ঢাকার অনেক মানুষ বিশ্রাম ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু অভ্যাস রপ্ত করছেন।
শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও শোবার ঘরের পরিবেশ
ঢাকায় যানজট ও নির্মাণকাজের কারণে শব্দের মাত্রা প্রায়ই ১০০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়। এই শব্দ থেকে রক্ষা পেতে অনেক বাসিন্দা ইয়ারপ্লাগ, হোয়াইট নয়েজ ফ্যান বা ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করছেন, যাতে শোবার ঘরটি শান্ত ও অন্ধকার থাকে এবং সহজে ঘুম আসে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যে ক্রমাগত শব্দ ঘুম ভেঙে দেয়, এই পদক্ষেপগুলো সরাসরি সেই সমস্যার মোকাবেলা করে।
দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তারা বিকেল ৪টার পর ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলছেন, ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া বন্ধ রাখছেন এবং বিকেলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এই পরিবর্তনগুলোর ফলে রাতে বারবার ঘুম ভাঙার প্রবণতা কমেছে এবং সারাদিন শক্তি ধরে রাখা সহজ হচ্ছে। এই অভ্যাসগুলো শহরের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াতের সময়সূচির সঙ্গেও মানানসই।
গরম ও আর্দ্রতা মোকাবেলা
ঢাকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতা সামলাতে বাসিন্দারা ফ্যান বা কুলার ব্যবহার করে শোবার ঘরের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করেন, যা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। রাত পর্যন্ত বাইরের তাপমাত্রা বেশি থাকলেও এই অভ্যাসগুলো শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্ক্রিন ব্যবহার কমানো ও শিথিলায়ন
ঘুমানোর ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে থেকে স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে ব্লু-লাইট ফিল্টার চালু রাখা হচ্ছে। এর বদলে অনেকে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান বা বই পড়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যায় ডিভাইস ব্যবহারের বদলে এই কাজগুলো করলে দ্রুত মন শান্ত হয় এবং রাতে অযথা চিন্তার ঘোরপাক কমে।
এই পদ্ধতিগুলো স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রচলিত ঘুমের স্বাস্থ্যবিধির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অনেকে বলছেন, একসঙ্গে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকটাই সতেজ অনুভব করেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের শুধু সাধারণ পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।